হাবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস ২০১৭ পালিত।
Posted: 16 December, 2017

যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শনিবার হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি পালনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ হতে ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হয়।

সকাল ৯ টায় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম -এর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মচারী ও হাবিপ্রবি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা এক বিশাল বিজয় র‌্যালিতে অংশ নেয়। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। সকাল সাড়ে ৯:৩০ টায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম-এর নেতৃত্বে শহীদ মিনার বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, ছাত্রলীগ হাবিপ্রবি শাখার নেতৃবৃন্দ, কর্মচারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে সকাল ১০ টা ৪০ মিনিটে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. শাহাদৎ হোসেন খান এর সভাপতিত্বে বিজয় দিবস উপলক্ষে অডিটোরিয়াম-১ এ এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম। মুখ্য আলোচক হিসেবে “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং বর্তমান বাংলাশে” শিরোনামে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শহিদুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ডিভিএম অনুষদের ডীন প্রফেসর ডা. মো. ফজলুর হক, হাবিপ্রবি’র ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ আহমেদ নয়ন, মোস্তফা তারেক চৌধুরী। আলোচনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ড. মো. রাশেদুল ইসলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম বলেন, মুক্তিযুুদ্ধ শুধু আমাদের বিজয়ের ইতিহাস নয়, আমাদের দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণা যোগায় এবং আমাদেরকে উজ্জীবিত করে। বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশ বিনির্মাণের জন্য দরকার আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ দিয়ে স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করা। তিনি আরও বলেন বর্তমান জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার কৃষি বান্ধব ও উন্নয়নের সরকার। এ সরকার আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশে পরিনত হবে।

মুখ্য আলোচক হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শহিদুল ইসলাম বলেন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আমাদের জানতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারন করে কাজ করতে হবে। আমরা এখন আর তলাবিহিন ঝুঁড়ি নই। উন্নয়নে আমরা এখন এশিয়ার রোল মডেল। আমাদের গার্মেন্টস শিল্প এখন পৃথিবীর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম। বেলা ১২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীদের জন্য প্রীতি ভলিবল ম্যাচ, শিক্ষিকা এবং ছাত্রীদের জন্য মিউজিক্যাল চেয়ার অনুষ্ঠিত হয়। বাদ যোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

News and Events